:

‘বিশ্বাসযোগ্য ভোটার উপস্থিতি’ই অংশগ্রহণের মাপকাঠি: ইইউ মিশন

top-news

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এই প্রথম পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষণ মিশন নিয়ে বাংলাদেশে এসেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকায় কার্যক্রম শুরু করেছে মিশনটি। রোববারের এক সংবাদ সম্মেলনে ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইইয়াবস স্পষ্ট করেছেন তাদের কাছে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক’ নির্বাচনের সংজ্ঞা কী।

মিশন প্রধান জানান, তাঁদের কাছে অন্তর্ভুক্তির অর্থ কেবল রাজনৈতিক দল নয়, বরং সমাজের সকল স্তরের মানুষের—বিশেষ করে নারী ও সংখ্যালঘুদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ। আর অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাপকাঠি হবে কেন্দ্রে ‘বিশ্বাসযোগ্য ভোটার উপস্থিতি’।

অন্তর্ভুক্তি ও অংশগ্রহণের ব্যাখ্যা

রোববার ঢাকার রেনেসাঁ হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইভার্স ইইয়াবস বলেন, “আমাদের দৃষ্টিতে অন্তর্ভুক্তি মানে হচ্ছে বাংলাদেশি নাগরিকদের সামাজিক সব গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি। নারী, জাতিগত-ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং আঞ্চলিক গোষ্ঠীর মতো পক্ষগুলো যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে, তা নিশ্চিত করা।”

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা নির্বাচনে বিশ্বাসযোগ্য ভোটার উপস্থিতির দিকে ভালোভাবে নজর রাখব। এর মাধ্যমেই ইঙ্গিত পাওয়া যাবে যে, বাংলাদেশের নাগরিকরা নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সত্যিকার অর্থে ব্যবহার করছে কি না।”

২০০৮ সালের পর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মিশন
২০০৮ সালের পর এবারই প্রথম বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠাল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইইউর ২৭টি সদস্য দেশের পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক এই মিশনে যুক্ত থাকবেন।

মিশনের গঠন সম্পর্কে জানানো হয়:
* ঢাকাভিত্তিক ১১ জন বিশ্লেষক নিয়ে একটি কোর টিম কাজ করছে।
* রোববার ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক ঢাকায় পৌঁছেছেন।
* ভোটের ঠিক আগে ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হবে।
* এছাড়াও ইইউ সদস্য রাষ্ট্র ও অংশীদার দেশের কূটনৈতিক মিশনের পর্যবেক্ষকরা এতে যুক্ত থাকবেন।

মিশনের কাজের পরিধি
ইভার্স ইইয়াবস জানান, মিশনটি নির্বাচন প্রস্তুতি, আইনি কাঠামো ও তার বাস্তবায়ন, নির্বাচনী প্রচার এবং বিরোধ নিষ্পত্তিসহ পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবে। নির্বাচন প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, বিচার বিভাগ, সুশীল সমাজ এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করবে তারা।

বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে:
* নারী, তরুণ ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ।
* ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা (এর জন্য পৃথক মনিটরিং ইউনিট রয়েছে)।
* নির্বাচনটি জাতীয় আইন এবং আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক মানদণ্ড অনুযায়ী হচ্ছে কি না, তার মূল্যায়ন।

প্রতিবেদন প্রকাশ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
নির্বাচনের দুই দিন পর একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে ইইউ মিশন। আর নির্বাচনের প্রায় দুই মাস পর সুপারিশসহ পূর্ণাঙ্গ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ এবং নিবন্ধন বাতিল প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মিশন প্রধান বলেন, “দলের নিবন্ধন এবং রূপান্তরকালীন সময়ে বিচারের বিষয়টি ঐতিহাসিকভাবে জটিল। আমরা এসব ইস্যুতে সরাসরি মন্তব্য করছি না। তবে নির্বাচন ও ভোটার উপস্থিতিতে এসবের কী প্রভাব পড়ছে, সেদিকে আমাদের নজর থাকবে।”

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর ওপর নানা বিধিনিষেধ এবং নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন স্থগিত হওয়ায় এবারের নির্বাচনে দলটির অংশগ্রহণের পথ বন্ধ হয়ে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *